এসএসসি ১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২। SSC assignment 2022

এসএসসি ১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২। SSC assignment 2022

এসএসসি ১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ : এসএসসি ২০২২ ১৫তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট কৃষিশিক্ষা । SSC অ্যাসাইনমেন্ট 2022 15ম সপ্তাহ: সম্প্রতি ২০২২ শিক্ষাবর্ষে এএসএসসি ২০২২ ১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রসমূহের আলোকে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক ২০২২ সালেও ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি সহ এইচএসসি ২০২২  শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়ন করা হয়েছে।যা করা সকলের জন্য বাধ্যতা মূলক।

এসএসসি ১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

শ্রেণিঃ ssc 2022
১৫তম সপ্তাহ
বিষয়ঃ কৃষি শিক্ষা
অ্যাসাইনমেন্ট নংঃ ০২
শিরোনামঃ “উত্তমরুপে জমি প্রস্তুত না কবে ফসল নির্বাচনই ভূমিক্ষয়ের একমাত্র কারণ”

১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট

জমি প্রস্তুতি কি ও জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব

জমি প্রস্তুতিঃ জমি চাষ করে তা বীজের অংকুরোদগমের জন্য তথা ফসল উৎপাদনের জন্য সুনিপণ করে তোলা বেশ কিছু নিয়ামক দ্বারা নির্ধারিত হয়। যেমন- মাটির প্রকৃতি, জৈব পদার্থের উপস্থিতির মাত্রা, মাটির রস এবং সর্বোপরি ফসলের প্রকারভেদ। স্বভাবতই মাটি যদি দোআঁশ, বেলে কিংবা বেলে দোআঁশ প্রকৃতির হয় তাহলে অন্য চাষ ও মই দিয়ে ভূমিকে ফসল উৎপাদন তথা বীজের অংকুরোদগমের উপযোগী করা যায়। বিপরীতে কাদামাটির ক্ষেত্রে বেশি চাষের প্রয়োজন পড়ে। নিচে জমির প্রস্তুতির উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হলো।

জমি প্রস্তুতির গুরুত্বঃ

ভূমি কর্ষণ জমি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। | ভূমি কর্ষণের সংকীর্ণ অর্থ হলো ফসল ফলানোর উদ্দেশ্যে জমির মাটি যন্ত্রের সাহায্যে খুঁড়ে আলগা করা। কিন্তু ভূমি কর্ষণের সাথে নানা প্রযুক্তি জড়িত। যেমনঃ বীজকে অংকুরোদগমের জন্য উপযুক্ত স্থানে ও সঠিক গভীরতায় স্থাপন করা, মাটিতে বায়ু চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি করা, উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে নিয়ে আসা, মাটিতে অণুজীবের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। এসব দিক বিবেচনা করে জমি প্রস্তুতির গুরুত্ব উপলদ্ধি করা যায়। আর এই গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য ভূমি কর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে শস্যের বীজ মাটিতে সুষ্ঠুভাবে বপন ও পরবর্তী পর্যায়ে চারাগাছ বৃদ্ধির জন্য মাটিকে যে প্রক্রিয়ায় খুঁড়ে বা আচড়ে যে আগাছামুক্ত, নরম, আলগা ও ঝুরঝুরা করা হয় তাকে ভূমিকৰ্ষণ বলে।

১৫তম সপ্তাহের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

ভূমিক্ষয়ের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

ভূমিক্ষয়ের সংজ্ঞা: বৃষ্টি, নদী, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ ইত্যাদির ক্রিয়ায় ভূভাগের ক্ষয় ঘটে এবং ভূমিপৃষ্ঠের উচ্চতা কমতে থাকে। ভূমিপৃষ্ঠের এভাবে ক্ষয়কে ভূমক্ষয় বলে।
ভূমিক্ষয়ের প্রকারভেদ: ভূমিক্ষয় দুই প্রকার। যথা: ১. প্রাকৃতিক ভূমিকায় ২. মানুষ কর্তৃক ভূমিক্ষয় ।
প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়: ভূমিক্ষয়ের প্রাকৃতিক হস্তক্ষেপ ব্যাপক। ভূ সৃষ্টির শুরু থেকেই এর ক্ষয় শুরু হয়েছে। দীর্ঘকালের এই ক্ষয়ের ফলেই নদীর মোহনায় সমুদ্রে চর সৃষ্টি হয়েছে বা দ্বীপ গড়ে উঠেছে। এই ভূমিক্ষয়ের ফলে পৃথিবীর অনেক অঞ্চল উর্বর হয়েছে। আবার অনেক অঞ্চল অনুর্বর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে অনবরত ভূমিক্ষয় হচ্ছে অথচ আমরা তা উপলদ্ধি করি না। বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এগুলো চলার পথে ভূ পৃষ্ঠের মাটির কণা বহন করে নিয়ে যায়। এ জন্য যে পরিমাণ মাটির ক্ষয় হয় তা খুবই নগণ্য এবং দৃষ্টিগ্রাহ্যও হয় না। হয়তো তাই ভূমির এই ক্ষয়কে বলা হয় স্বাভাবিক ক্ষয়।
মানুষ কর্তৃক ভূমিক্ষয়ঃ মানুষের বাচার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদনের জন্য মানুষ মাটিকে যথেষ্ট ব্যবহার করে আসছে সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে। ভূমিকৰ্ষণ, পানি, সেচ, পানি নিষ্কাশন ইত্যাদি কাজ কৃষিকাজের মূল অংশ। এ কাজগুলো দ্বারা মাটিকে প্রতিনিয়ত উৎপীড়ন করা হচ্ছে। ফলে ভূমিগুলো প্রাকৃতিক শক্তির তথা বৃষ্টি ও বাতাসের নিকট উন্মোচিত করছে | এবং ক্ষয় হচ্ছে। মাটিকে যত ব্যবহার করা হবে ততই এর ক্ষয় হতে থাকবে।

কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

আবার ভূমিক্ষয়েক প্রধানত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা: ১. বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয় | ২. বায়ুপ্রবাহজনিত ভূমিক্ষয়।
বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষম: বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক ভূমিক্ষয় হয়। এই ভূমিককে নিচের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. আস্তরণ ভূমিক্ষয় ২, রিল ভূমিক্ষয় ৩. নালা বা গালি ভূমিক্ষয় ৪. নদী ভাঙন।
আস্তরণ ভূমিক্ষয়: যখন বৃষ্টির পানি বা সেচের পানি উঁচু স্থান থেকে ঢাল বেয়ে জমির উপর দিয়ে নিচের দিকে প্রবাহিত হয় তখন জমির উপরিভাগের নরম ও উর্বর মাটির কণা কেটে পাতলা আবরণের বা আস্তরণের মতো চলে যায়।এইটাকেই বলা হয় আস্তরণ ভূমিক্ষম।
রিল ভূমিক্ষয়: রিল ভূমিক্ষয় আস্তরণ ভূমিক্ষয়েরই দ্বিতীয় ধাপ। প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে পানি বেশি হলে জমির ঢাল বরাবর লম্বাকৃতিয় রেখা সৃষ্টি হয়। যা অনেকটা হাতের রেখার মতো।
লালা বা গালি ভূমিক্ষয়: এই ভূমিক্ষয় আন্তরণ ভূমিক্ষয়ের তৃতীয় ধাপ। অর্থাৎ রিল ভূমিক্ষয় থেকেই নালা বা গালি ভূমিক্ষযের উদ্ভব।

২০২২ সালের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট

নদী ভাঙনঃ
নদী ভাঙন বাংলাদেশের ভূমিক্ষয়ের একটি উল্লেখযোগ্য কারন। চাদপুর, সিরাজগঞ্জ, গোয়ালন্দ প্রভৃতি অঞ্চলে প্রতি বৎসরই নদী ভাঙনে শত শত হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে।
বায়ু ভূমিক্ষয়: যেসব এলাকায় গাছপালা কম এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কম, সেসব এলাকায় বাত্তাজনিত কারণে ভূমিক্ষয়ের গ্রকোপ দেখা যায়।
ভূমিক্ষয়ের কারণঃ বিভিন্ন কারণে ভূমিক্ষয় ঘটতে পারে। যথা- (১) বৃষ্টিপাত(২) ভূমির ঢাল (৩) মাটির প্রকৃতি (৪) শস্যের প্রকার (৫) জমি চাষ পদ্ধতি (৬) অত্যধিক পশুচারণ (৭) মানব কার্যাবলি।
১। বৃষ্টিপাত: ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো বৃষ্টিপাত। এর তীব্রতা, সংখ্যা এবং পরিমাণ সরাসরি ভূমিক্ষয়ের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। বড় আকারে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিকে সজোরে আঘাত করলে মাটির কণা পানির সাথে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। | ঘন ঘন এবং অনেক সময় ধরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলে মৃত্তিকার শোষণ ক্ষমতা মারাক্তকভাবে হ্রাস পায়। এমন অবস্থায় অতিরিক্ত পানির সাথে মাটির কণা মিশে জমির উপর দিয়ে নিচের দিকে ধাবিত হয়। প্রবাহমান পানির বেগ যত বেশি | হবে মাটির ক্ষয়ও তত বেশি হবে।

২। ভূমির ঢাল: ভূমির ঢাল মাটি ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। যে জমি যত বেশি ঢালু এবং ঢালের দৈর্ঘ্যও বেশি, সে জমির মাটি ক্ষয় তত বেশি হয় কারণ অধিকতর ঢালু জমিতে প্রবাহমান পানির বেগও অধিক হয়ে থাকে।
৩। মাটির প্রকৃতি: মাটির বুনট মাটি কণার দানাবন্ধন ও জৈব পদার্থের পরিমাণের উপর মাটির ক্ষয় অনেকাংশে নির্ভর করে, হাল্কা, দানাদার ও জৈব পদার্থযুক্ত মাটি রন্ধ্রবহুল বলে বৃষ্টির পানি সহজেই শোষিত হয়। এ ধরনের মাটির ক্ষয় কম হয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত ভারি এঁটেল জাতীয় মাটির রন্ধ্রতা কম থাকায়, এ মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা কম। এ ধরনের মাটি অল্প বৃষ্টিতেও অধিক ক্ষয়হয়।

২০২২ সালের কৃষিশিক্ষা অ্যাসাইনমেন্ট

৪। শস্যের প্রকার: শস্য নির্বাচন করে মাটির ক্ষয় কমানো সম্ভব। চীনাবাদাম, খেসারি, বরবটি, সয়াবিন প্রভৃতি অধিক পাতাযুক্ত ফসলের চাষাবাদ করে ভূমিক্ষয় কমানো সম্ভব। অন্যদিকে ইক্ষু, ভূট্টা,তুলা প্রভৃতি কম পাতাযুক্ত ফসলের চাষাবাদে ভূমিক্ষয় বেশি হয়।
৫। জমির চাষ পদ্ধতি: জমির প্রকৃতি না বুঝে জমি চাষ করলে উপরিস্তরের উর্বর মাটির ক্ষয়সাধন বেশি হয়ে থাকে। যেমন- অসমতল বিশেষ করে পাহাড়ি জমিতে ঢালের আড়াআড়ি চাষ না করে ঢাল বরাবরে চাষ করলে ভূমিক্ষয় বেশি হয়।
৬। অত্যাধিক পশুচারণ: অধিক বা অনিয়মিত পশুচারণ ভূমিক্ষয়ের আর একটি অন্যতম কারণ। অত্যধিক পশুচারণে পশুর পা দ্বারা ভূমির মাটি অধিকহারে অপসারিত হয়।
৭। মানব কার্যাবলি: মানুষ ভূমিক্ষয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণ অবস্থায় বনজঙ্গল বা মাট-ঘাটে ভূমিক্ষয় ঘটে না। মানুষ অপরিকল্পিতভাবে গাছপালা কেটে ফেললে জমি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

SSC assignment 2022

বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করে যুক্তি উপস্থাপন

বিভিন্ন কারণে ভূমিক্ষয় ঘটতে পারে। বৃষ্টিপাত ভূমির ঢাল, মাটির প্রকৃতি, শস্যের প্রকার, চাষ পদ্ধতি, পশুচারণ ও মানুষের কার্যাবলী এর জন্য দায়ী।ভূমিক্ষয়ের ফলে যেহেতু পুষ্টি উপাদানের স্থানান্তর ঘটে। এ বিপর্যয় রোধের জন্য কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরী। পানি প্রবাহের গতিমুখ পরিবর্তন বা বেগ কমিয়ে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়। এছাড়া পানি নিস্কাশনের কার্যকরি ব্যবস্থা, বনভূমি সৃষ্টি, চাষ পদ্ধতির পরিবর্তন, বাঁধ বা আইল তৈরী করেও ক্ষেত্র বিশেষ ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব। এ পরিবর্তন, বাঁধ বা আইল তৈরী করেও ক্ষেত্র বিশেষ ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব। পরিবর্তন, বাঁধ বা কাজেই “উত্তমরুপে জমি প্রস্তুত না করে ফসল, নির্বাচনই ভূমিক্ষয়ের একমাত্র কারণ।” এই উক্তিটির সাথে আমি একমত নই। কেননা ভূমিক্ষয়ে অন্যন্য কারণের মাঝে এটিই একটি কারণ মাত্র।

►► আরো দেখো: এইচএসসি ১৩তম সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২
►► আরো দেখোচট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(চুয়েটে)চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২২

 

 

Leave a Reply