এসএসসি ২০২২ ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট । Business Enterprise Assignment 2022

এসএসসি ২০২২ ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট

এসএসসি ২০২২ ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে।আপনারা খুব সহজেই এখান থেকে এসএসসি ২০২২ ব্যবসায় উদ্যোগ অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর পেয়ে যাবেন।তাছারা PDF আকারেও খুব সহজে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।করোনা ভাইরাস এর কারনে ২০২১ সাল থেকে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম চালু হয়।

২০২২ ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট প্রকাশিত হয়েছে এসএসসি

আত্মকর্মসংস্থানের ধারণাঃ
নিজস্ব পুজি অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যতম ঝুঁকি নিয়ে আয় প্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। জীবিকা অর্জনের বিভিন্ন পেশার মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান একটি জনপ্রিয় পেশা। আমাদের চারপাশে এমন অনেক আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ড দেখা যায়। কলেজ গেইটের পাশে যে চানাচুর বা আমড়া বিক্রি করে সেটিও তাদের আত্মকর্মসংস্থান। এরকম নানাবিধ জীবিকার উপায় আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাঁস-মুরগি পালন, নার্সারি, ফুলের চাষ, বেতের সামগ্রি তৈরি, টেইলারিং ও মৌমাছি চাষ ইত্যাদি আত্মকর্মসংস্থানের আওতাভুক্ত। জামালপুরের আমিনুল ইসলাম কয়েক বছর ধরে ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে কম বেতনে চাকরি করে। অল্প টাকায় সংসার চালনো কষ্টসাধ্য তাই সে চিন্তা করল চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের যে জমি রয়েছে তাতে কৃষিকাজ করবে। আমিনুল কৃষিকাজে খুব দক্ষ না হলেও অনেক কিছুই সে জানে। তাই সে তার মেধা ও জমানো কিছু টাকাকে পুজি করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ শুরু করল। মাস দুই এক পর সে স্থানীয় বাজারে ভালো দামে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে শাকসবজি বিক্রি করে অনেক মুনাফা অর্জন করল। আমিনুল আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এখন স্বাবলম্বী।

আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বদ্ধকরণের ধাপঃ
আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত দক্ষতা ও স্বনির্ভর পেশায় নিয়োজিত থেকে জীবিকা অর্জনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি। যেহেতু দেশে চাকরির সুযোগ সীমিত এবং ইচ্ছা করলেই সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে এত অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব না তাই একমাত্র বিকল্প হচ্ছে নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করা। কিন্তু এদেশের যুবসমাজের নিকট আত্বকর্মসংস্থানের ধারণা স্বচ্ছ ও যথেষ্ঠ নয়। নিচে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বদ্ধকরণের ধাপ বর্ণনা করা হলো:
১. বর্তমানের যুব ও তরুন সমাজের আগামী প্রজন্মকে আত্বকর্মসংস্থানে উদ্বদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী।
২. শিক্ষার্থীদের করতে হবে যে কোনো কাজই ছোট বা অপমানের নয়।
৩. বেশি এলাকায় আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে যারা স্বাবলম্বী হয়েছে তাদেরকে বিদ্যালয়ে এনে শিক্ষার্থীদের তাদের জীবনকাহিনী শোনাতে হবে।
৪. বেশি এলাকায় আত্বকর্মসংস্থানের উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলো তালিকা করে প্রচার করতে হবে।
৫. সকল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও ঋণদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক ও কারীগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৭. আত্বকর্মসংস্থানকে সামনে রেখে যুব উন্নয়ন ব্যাংক ও শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ঋণদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

Business Enterprise Assignment 2022

আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণের প্রযোজনীয়তাঃ
নিম্নে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো:
কার্য প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে পরিচিতি
প্রতিষ্ঠানের কর্মের প্রকৃতি ও কর্ম পরিবেশের সাথে পরিচিত হওয়া নবনিযুক্ত কর্মীদের জন্য আবশ্যক। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নতুন কর্মীদের কর্ম পরিবেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের অপ্রতুলতা দূরীকরণ
প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সবসময় উপযুক্ত শিক্ষাগ্ৰাম্ভ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেজন্য নিয়োগের পর কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করা হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব দূরীভূত হয়।
কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি
প্রশিক্ষণ কর্মীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। তাই নতুন পুরাতন সকল কর্মীর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
সম্পদের সদ্ব্যবহার
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। ফলে উদ্যোক্তা বা কর্মী কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদের উৎকৃষ্ট ব্যবহার সম্ভব হয়।
নৈতিক বল বৃদ্ধি
প্রশিক্ষণ উদ্যোক্তা বা কর্মচারীদের মনোভাবের উন্নতি সাধন করে। ফলে তাদের নৈতিক বল বৃদ্ধি পায়।
অপচয় ও দুর্ঘটনাস্রাস
প্রশিক্ষিত কর্মীগণ অধিকতর দক্ষতা ও মিতব্যয়িতার সাথে কার্য সম্পাদন করতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে অপচয় হ্রাস পায়।প্রশিক্ষণ কর্মীদেরকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিবিধ কলা-কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। ফলে কারখানার যন্ত্রপাতি ব্যবহারসহ অন্যান্য দুর্ঘটনা এড়ানোও সহজ হয়।

পরিশেষে বলা যায়, কর্মীর দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুষ্ঠভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্য নির্বাহের জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপারিসীম। নতুন ও পুরাতন উভয় প্রকার কর্মীকেই উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে না পারলে তাদের দিয়ে ভালো কাজ আশা করা যায় না। তাই কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের আবশ্যকীয় কর্তব্য।

আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সহায়তাঃ
যে সমাজ ও দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা যত বেশি, সে সমাজ বা দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত উন্নত। প্রত্যেক দেশেই জনগনকে বিভিন্ন কাজে স্বাবলম্বী করার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঐসকল প্রতিষ্ঠান আগ্রহী ব্যক্তিদের বিভিন্ন কাজে উদ্বদ্ধ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। নিম্নে এগুলোর কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলোঃ
১.যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দেশের প্রতিটি থানায় এর কার্যালয় রয়েছে। এ সকল কেন্দ্রের মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতীদেরকে বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যেমন- হাঁস মুরগি খামার তৈরি, মৎস্য চাষ,সবজি বাগান, নার্সারি করা,সেলাইয়ের কাজ, কুটির শিন্ত্রের কাজ, কম্পিউটার চালনা প্রভৃতি। এ সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা আয়কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
২. বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড: এটি গ্রামের দুস্থ ও ভূমিহীন নারী-পুরুষদের আত্বর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে যাতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তারা স্বাধীনত৷বে একটি পেশা বেছে নিয়ে উপার্জন করতে পারে।
৩. বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজম্যান্ট : এটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে এটি আত্বর্মসংস্থান ও উদ্যোগ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রধান প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠাকরণ, মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রভৃতি।
৪. মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় : প্রতিষ্ঠানটি মূলত মহিলাদের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে গ্রামের দুস্থ, শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মহিলাদেরকে স্বকর্মসংস্থানের সূযোগ করে দেয়া এর মূল উদ্দেশ্য। এটি উদ্যোগী মহিলাদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে।
৫, গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থানের প্রকল্প:এ প্রকল্পের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মহিলাদেরকে বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষন দেয়া হয় এবং প্রশিক্ষন শেষে ঋণ বিতরণ করা হয়। শুধু প্রশিক্ষনপ্রাপ্তরাই ঋণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাদের এ কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে দেশের তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

►► আরো দেখো: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি ২০২২
►► আরো দেখো১২তম সপ্তাহের এসএসসি ২০২২ বাংলা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট

 

Leave a Reply