১২তম সপ্তাহের এসএসসি ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ | Geography and environment assignment 2022

১২তম সপ্তাহের এসএসসি ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

১২তম সপ্তাহের এসএসসি ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২:প্রকাশ করা হয়েছে।আপনারা খুব সহজেই এখান থেকে এসএসসি ২০২২ ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর পেয়ে যাবেন।তাছারা PDF আকারেও খুব সহজে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।করোনা ভাইরাস এর কারনে ২০২১ সাল থেকে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম চালু হয়।

Geography and environment assignment 2022

তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
বরাবর
প্রধান শিক্ষক,
এস,এম উচ্চ বিদ্যালয়,
পঞ্চগড়
বিষয়: মানচিত্র গঠন ও ব্যবহার বিষয়ক প্রতিবেদন।
জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে প্রকাশিত আপনার আদেশ নং এ.উ.বি-২৫৬/ক অনুসারে “মানচিত্র পঠন ও ব্যবহার” শীর্ষক প্রতিবেদনটি নিম্নে পেশ করা হলো।

ভূমিকা: মানচিত্র একজন ভূগোলবিদের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ। এর সাহায্যে সমগ্র পৃথিবী বা কোনো অঞ্চল সম্বন্ধে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়। একটি মানচিত্রের মধ্যে আমরা সমগ্র পৃথিবীকে অথবা কোনো এক অঞ্চলকে দেখতে পারি। আমরা কোনো একটি কাগজের মধ্যে মানচিত্র এঁকে সেখানে চিহ্ন দিয়ে সেই অঞ্চলের অবস্থা সম্বন্ধে বুঝতে পারি।

মানচিত্রের ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা:
মানচিত্রের ধারণা
পৃখিবীর মহাদেশ এবং মহাসাগরসমূহের বিভিন্ন অংশের সীমা, আয়তন, অবস্থান এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক দূরত্ব বুঝানোর জন্য নির্দিষ্ট মাপনীর (Scale) (প্রেক্ষিতে সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠের অংশবিশেষের যে নকশা প্রস্তুত করা হয় তাকে মানচিত্র বলে। বিভিন্ন প্রকার সংকেত এবং রং (কালার) ব্যবহারের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানগুলয়োর পারস্পরিক দূরত্ব, আয়তন ও সীমা ঠিক রেথে প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রপঞ্চ এবং অর্থনৈতিক বিষয়াদি শিল্প-কারখানা এবং নগর বিষয়ক বিষয়াদী প্রভৃতি মানচিত্রে বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে দেখানো হয়। বিশেষ মান ভিত্তিক এ চিত্র অঙ্কিত হয় বলে একে মানচিত্র বলে। মানচিত্র অঙ্কনের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন স্কেল ও অভিক্ষেপ।
ভূগোলবিদদের মতে- “প্রচলিত সাংকেতিক চিহ্ন, নির্দিষ্ট স্কেল ও অভিক্ষেপের সাহায্যে সমতুল কাগজের উপর অঙ্কিত সমগ্র পৃথিবী বা এর অংশবিশেষের প্রতিরূপকে মানচিত্র বলে।

১২তম সপ্তাহের এসএসসি ভূগোল ও পরিবেশ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ প্রকাশিত

মানচিত্রের গুরুত্ব:

মানচিত্রের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়ে তা উল্লেখ করা হলো:
১. যে কোনো স্থানের ভৌগোলিক তথ্যসমূহ সঠিকভাবে মানচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়।
২. মানচিত্রের সাহায্যে গ্রাম, শহর, স্থলপথ, জলপথ, নদনদী,পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, পর্যটনের স্থানসমূহ, ভূ-প্রকৃতি, কৃষি, শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদন, বন্টন প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মানচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয় বলে সহজে তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করা যায়।
৩. মানচিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব নির্ণয় করা যায় এতে যাতায়াত সহজ হয়।
৪. বিভিন্ন ধরনের মানচিত্র প্রাকৃতিক ভূগোলের স্থানকে সমৃদ্ধ করেছে। যেমন- আবহাওয়া মানচিত্র থেকে আবহাওয়া, মৃত্তিকা মানচিত্র থেকে মৃত্তিকা, সমুদ্র স্রোতের মানচিত্র থেকে সামুদ্রিক স্রোতসমূহ প্রভৃতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়।
৫. সমুদ্রে জাহাজ চালাতে, বিমান ভ্রমণে মানচিত্র সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর অবস্থান জানতেও মানচিত্রের জ্ঞান প্রযোজন।
৬. প্রশাসনিক কর্মকান্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য মানচিত্র ব্যবহৃত হয়।

মানচিত্রের প্রকারভেদ বর্ণনা:

মানচিত্র বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। কী উদ্দেশ্যে মানচিত্রটি ব্যবহৃত হবে তার উপর ভিত্তি করে যে যে মানচিত্র হয় তার কিছু প্রকারভেদ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১: মৌজা মানচিত্র (Cadastral Map): ভূমি বিল্ডিং এর মালিকানার সীমানা চিহ্নিত করার জন্য যে মানচিত্র তৈরি করা হয় তাই মৌজা মানচিত্র।
২: ভূনিক মানচিত্র (Topographic Map): প্রকৃত জরিপ কার্যের মাধ্যমে ভূহানিক মানচিত্র তৈরি করা হয়। এ ধরনের মানচিত্রে সাধারণত প্রাকৃতিক ও সামাজিক
উপাদান দেখানো হয়ে থাকে।
৩: দেয়াল মানচিত্র (Wall Map): মূলত শ্রেণিকক্ষ ও দেয়ালে প্রদর্শনের জন্য এ ধরনের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। মানুষের চাহিদা মোতাবেক যখন কোন একটি মহাদেশ, দেশ ও দেশের এক একটি অংশকে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়, তাকে দেয়াল মানচিত্র বলে।
৪: মৃত্তিকা বিষয়ক মানচিত্র (Soil Map): মাটির ধরনের উপর ভিত্তি করে এ মানচিত্র তৈরি করা হয়।
৫: প্রাকৃতিক মানচিত্র( Physical Map): মানচিত্রে যখন কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ যেমন– পর্বত, মরুভূমি ,নদনদী, ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে তখন সে মানচিত্রই হলো প্রাকৃতিক মানচিত্র।
৬: ভূতাত্বিক মানচিত্র(Geological Map): ভূতক গঠনকারী শিলাসমূহের অবস্থান ও গঠনের উপর ভিত্তি করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে ভূতাম্বিক মানচিত্র বলে।
৭: জলবায়ুগত মালচিত্র(Climate Map): বায়ুর তাপ, বাযুর চাপ বায়ুগ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, আদ্রর্তা ভূক্তির ওপর ভিত্তি করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয় তাকে জলবায়ুগত মানচিত্র বলে।
৮: উদ্ভিজ্জ বিষয়ক মানচিত্র (Vegetation )): বিশ্বের কোথায় কোন ধরনের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ আছে তার উপর ভিত্তি করে যে মানচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে উদ্ভিজ মানচিত্র বলে।
৯: ভূচিত্রাবলী বা এটলাস মানচিত্র: মানচিত্রের সমষ্টিকে আয়তনকে কমিয়ে ক্ষুদ্র করে আঁকতে হয়। একে স্কেল অনুসারে আঁকা বলে। স্কেল থেকে বোঝা যায় কোন আয়তনকে কতটুকু কমানো হয়েছে।

উত্তর দিক (North Line): মানচিত্রের দিক জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানচিত্রের মাথায় বাম দিকের মার্জিনে একটি তীর দেওয়া থাকে। এই তীরের মাথায় উ. লেখা থাকে। উ. দিয়ে উত্তর দিক বোঝানো হয়।

সূচক (Legend): মানচিত্রে কোন প্রতীক দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে সূচক তা নির্দেশ করে। প্রতিটি মানচিত্রেই প্রতীক ও এদের সূচক উল্লেখ করতে হবে।
তথ্য উপাত্ত (Source of Data): সব মানচিত্র তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয়। এজন্য তথ্যের উৎস মার্জিন বা মার্জিনের বাইরে দেওয়া প্রয়োজন।

Geography and environment assignment 2022 12th week

উল্লেখিত দুটি মানচিত্র চিহ্নিতকরণ ও ব্যাখ্যা:
উল্লেখিত ১ম মানচিত্রটি হলো ভূসংস্থানিক মানচিত্র এবং ২য় মানচিত্রটি হলো ক্যাডাস্ট্রাল বা মৌজা মানচিত্র। নিম্নে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:

ভূসংস্থালিক মানচিত্র: ভূসংস্থানিক- এর আরেক নাম হচ্ছে স্থানীয় বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র। এই মানচিত্রগুলো প্রকৃত জরিপকার্যের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত এর মধ্যে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দুই ধরনের উপাদান দেখতে পাওয়া যায়। এই ধরনের মানচিত্রের স্কেল একেবারে ছোট্ট না হলেও মৌজা মানচিত্রের মতো বৃহৎ ও নয়। এই মানচিত্রগুলোতে কিন্তু জমির সীমানা দেখানো হয় না।

ক্যাডাস্ট্রাল বা মৌজা মানচিত্র: ক্যাডাস্ট্রাল শব্দটি এসেছে ফ্রেঞ্চ শব্দ ক্যাডাষ্ট্রে (Cadastre) খেকে, যার অর্থ হচ্ছে রেজিস্ট্রিকৃত লিঙ্গের সম্পত্তি। এই মানচিত্র তৈরি করা হয় সাধারণত কোনো রেজিস্ট্রিকৃত ভূমি অথবা বিল্ডিং এর মালিকানার সীমানা চিহ্নিত করার জন্য। আমাদের দেশে আমরা যে মৌজা মানচিত্রগুলয়ো দেখতে পাই সেগুলো আসলে ক্যাড়াস্ট্রাল মানচিত্র। এই মানচিত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে আমাদের গ্রামের মানচিত্রগুলয়ো। এই মানচিত্রে নিখুঁতভাবে সীমানা দেওয়া থাকে।

মতামত প্রদান: উপরের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, উল্লেখিত ১ম বৈশিষ্ট্যের মানচিত্র হলো ভূসংস্থানিক মানচিত্র এবং ২য় মানচিত্রটি ক্যাডাস্ট্রাল বা মৌলা মানচিত্র।

উপসংহার: মানচিত্র গঠলে শুধু কোন জায়গা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায় তা নয়। মানচিত্র গঠনে কোন দেশের বা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সম্পর্কে খুব সহজেই জ্ঞান লাভ করা যায়। তাই আমাদের জীবনে মানচিত্র সম্পর্কে ধারণা রাখার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রতিবেদকের নামঃ এস ইসলাম
শ্রেণিঃ দশম।
রোল: …।
প্রতিবেদনের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
প্রতিবেদলের সময়: সকাল ১০ টা।

►► আরো দেখো: ষষ্ঠ শ্রেণি গণিত অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২২
►► আরো দেখো১২তম সপ্তাহের এসএসসি ২০২২ বাংলা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট

 

 

Leave a Reply